ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ , ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার চীনের ব্যাপক আকারে চীনের বিনিয়োগ আসবে, আশা প্রেস সচিবের নদী ও পানি ব্যবস্থাপনায় বেইজিংয়ের কাছে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ চায় ঢাকা ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ৯ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই ডাকাতি বৃদ্ধিতে উদ্বেগ নিরাপত্তা দাবি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সুনামগঞ্জে বালু উত্তোলন নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ আহত ৬ নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান সংস্কারের কথা বলেও পরে কথা রাখেনি- নাহিদ ঈদে ফিরতি যাত্রায় ৮ এপ্রিলের টিকিট মিলবে আজ মিয়ানমারে দু’দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশও পানি সঙ্কটে উত্তরাঞ্চলের কৃষি বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরে সহায়তা করবে চীনা এক্সিম ব্যাংক ভারত থেকে কেনা হবে আরও ৫০ হাজার টন চাল ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে তিন স্তরের নিরাপত্তা ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ঈদের ছুটি দীর্ঘ হলেও অর্থনীতিতে স্থবিরতা আসবে না-অর্থ উপদেষ্টা মিয়ানমারে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রোহিঙ্গারা নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ রাজধানীতে তীব্র যানজট
* সাগরে আবারও সৃষ্টি হয়েছে লঘুচাপ, ভারী বৃষ্টির শঙ্কা * লক্ষ্মীপুরে বাড়ছে পানি, ত্রাণ পৌঁছায়নি অনেক এলাকায় * চলমান বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জন

বন্যায় তছনছ জনপথ, খাদ্য সংকট

  • আপলোড সময় : ২৭-০৮-২০২৪ ১২:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-০৮-২০২৪ ১২:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন
বন্যায় তছনছ জনপথ, খাদ্য সংকট
ভারতের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত। বন্যায় দেশের ১১টি জেলায় রাস্তা-ঘাট, হাটবাজার, বাড়িঘর, বিভিন্ন ফসল তছনছ হয়েছে। এছাড়াও পুকুরের মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। চলমান বন্যায় ১১ জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৩ জন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান এ তথ্য জানান। এদিকে সাগরে আবারও সৃষ্টি হয়েছে লঘুচাপ, উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। লক্ষ্মীপুরে নতুন করে বাড়ছে পানি, ত্রাণ পৌঁছায়নি অনেক এলাকায়। পানির কারণে বাড়িতে থাকা সম্ভব হচ্ছে না, তাই আশ্রয়কেন্দ্রে অতিরিক্ত মানুষের চাপ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টিই আছে। ১১ জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৫৭ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন। পানিবন্দি পরিবার ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি। এখন পর্যন্ত বন্যায় মোট ২৩ জন মারা গেছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৬ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন এবং কক্সবাজারে তিনজন মারা গেছেন।
কামরুল হাসান আরও জানান, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। গত দুদিনে নতুন করে আর কোনো ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আগের বরাদ্দ করা ত্রাণ সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কামরুল হাসান আরও জানান, ১১ জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে মোট ৬৪৫টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।
কুমিল্লা জিওসির তথ্য মোতাবেক জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার সব উপজেলায় সড়ক পথে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার ২০ হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৮ হাজার প্যাকেট হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৪টি মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ওষুধসহ কুমিল্লা জেলার ৪ উপজেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে। ফেনীতে স্বাস্থ্যসেবা দিতে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, সেনাবাহিনী ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা নির্দেশনা দিয়েছেন। সচিব বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহায়তা দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে কামরুল হাসান বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে চান তারা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছেও তা দিতে পারেন। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সহায়তা নেয়া হবে। যারা ত্রাণ তহবিলে সহায়তা (চেক/পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে) দিতে ইচ্ছুক তাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল (মোবাইল ০১৭১৮-০৬৬৭২৫) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শরিফুল ইসলামের (মোবাইল-০১৮১৯২৮১২০৮) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব।
এদিকে দেশে চলমান বন্যায় ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গত রোববার এ সংখ্যা ছিল ২০ জন। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৫ লাখেরও বেশি মানুষ। রোববার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫২ লাখ।
এদিকে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যাকবলিত জায়গায় দ্রুত সময়ে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২০ কোটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বন্যা দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, উদ্ধার ও তাৎক্ষণিক ত্রাণকার্য পরিচালনার ব্যয়ভার মেটানোর জন্য ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় প্রধান উপদেষ্টা বন্যায় পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে এবং জরুরি চিকিৎসা প্রদানসহ তাদের প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
‘আমগো এলাকায় এতো পানি। ঘরে থাকার সুযোগ নাই। বাড়িতে আমরা ৪ পরিবার। সবাই পানির তলে। এখন থাকার মতো কোনো অবস্থা নাই। বাচ্চা-কাচ্চা, হাঁস-মুরগি নিয়ে অবস্থা খারাপ। মরলে এক সাথে মরিয়াম (মরবো), আর কি করিয়াম। কোনো দিকে আশ্রয়কেন্দ্রও এখন খালি নাই। সব জায়গার মধ্যে এখন মানুষ আর মানুষ।’
অপরদিকে লক্ষ্মীপুরে পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দিনে দিনে বাড়ছে বন্যায় আক্রান্তের সংখ্যা। জেলায় এখন প্রায় আট লাখ মানুষ পানিবন্দি। ত্রাণ সহযোগিতা খুবই কম আসছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যে ত্রাণ দিয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ ছাড়া সমন্বয়ের অভাবে কিছু মানুষ দুই-তিন বার ত্রাণ পাচ্ছে। আবার পানিবন্দি অনেক এলাকায় ত্রাণের গাড়ি ঢুকতে পাচ্ছে না। সদর উপজেলার বাঙ্গাখা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের সালাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের গ্রামের ৪শ পরিবার পানিবন্দি, মানুষের ঘরে পানি উঠছে। পানি নামবে, এই আশায় কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে না। এখানে কেউ এখন পর্যন্ত ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আসেনি। দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের ওমর ফারুক বলেন, মূল সড়ক থেকে আমাদের বাড়ি দূরে হওয়ায় এখানে কেউ ত্রাণ নিয়ে আসেনি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, জেলায় দুই থেকে তিন ফুট করে পানি বাড়ছে আর নতুন করে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। এই মুহূর্তে ত্রাণ সহযোগিতা পাঠানো এবং মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার জন্য নৌকার প্রয়োজন। পানিবন্দি মানুষদের পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, শিশুখাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণ প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান জানান, লক্ষ্মীপুরে প্রায় আট লাখ লোক পানিবন্দি, জেলার সদর উপজেলার রামগঞ্জ নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকা বিশেষ করে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী, উত্তর হামছাদী, বাঙ্গাখা, লাহার কান্দি, কুশাখালী, চরশাহী ইউনিয়নে মানুষ বেশি প্লাবিত হচ্ছে।
অপরদিকে সাগরে আবারও লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সাগরে আগে থেকেই মৌসুমি বায়ু সক্রিয় অবস্থায় ছিল। দুই কারণে এখন উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। উপকূলীয় এলাকার মধ্যে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনায় ভারী বৃষ্টির শঙ্কার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের শঙ্কাও আছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বৃষ্টি কম হবে। তবে উপকূলীয় এলাকায় চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, উজানের ভারী বৃষ্টিও কমে এসেছে, এখন উজান থেকে পানি আসাও কমে এসেছে, আর যদি এই পানি না বাড়ে, তাহলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে দ্রুত। সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোহর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
গতকাল সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এরপর আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ